কারিগরি শিক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বাড়ছে

দেশে প্রায় ৩২ লাখ প্রতিবন্ধী তরুণের চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। ৮ হাজার সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংখ্যক মানুষের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। ঢেলে সাজানোর পর কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের কারগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেলে গত মঙ্গলবার বিকেলে এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রডাকটিভিটি (বি-সেপ) প্রকল্প যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কারিগরি শিক্ষাই এ দেশের ভবিষ্যত। কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে কারণ কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দেশের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে সেটা সে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে, এগিয়ে যেতে পারে। যে যেমন প্রতিবন্ধী তাকে তার মত করে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দৃষ্টভঙ্গি বদলানোর কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বাস্তবে অনেক মানুষ প্রতিবন্ধীকে বাড়তি ঝামেলা মনে করে। তাই প্রতিবন্ধীকে বোঝা মনে না করার দৃষ্টিভঙ্গিও আনতে হবে। তা না হলে এগোনো যাবে না। এ লক্ষ্যে মানুষের মাঝে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠান থেকে বলা হয়, সারা দেশে ৮ হাজার সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। ঢেলে সাজানোর পর কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ৫৬ জন। আইএলও এর সহযোগিতায় সরকারি পদক্ষেপের পর ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫৭।

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি একটা বিষয়ে হয়তো অক্ষম থাকে, কিন্তু অন্য বিষয়গুলোতে সে প্রখর থাকে। তাই সেই গুণগুলো বিকাশে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, দেশের সব পলিটেকনিক কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা করা হয়েছে। এই কোটার লক্ষ্যমাত্রা ২০২০ সালে ২০ শতাংশ ও ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার এটা অর্জনেই কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রধান কারিগরি পরামর্শক কিশোর কুমার সিং বলেন, কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তকরণে বাংলাদেশ উদাহরণ তৈরি করেছে।

সেমিনারে শেষ অংশে কারিগরি শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করার একটি নির্দেশিকা মোড়ক উন্মোচন করা হয়।